মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

খেলাধুলা ও বিনোদন

খেলাধূলা শরীর, মননশীলতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব তৈরীতে এবং চরিত্র গঠনে অবদান রাখে। এবং তা কখনও কখনও দেশ কিংবা অঞ্চলকে অন্যদেশ কিংবা অন্য অঞ্চলের সাথে পরিচিত করে তোলে এবং দেশ কিংবা অঞ্চলকের সাথে সুপরিচিত এবং নিজস্ব সত্ত্বা বিকশিত করে তোলে। আমাদের আজকের এই লক্ষ্মীপুর জেলাও তেমুনি শত বছর থেকে তৎকালীন বৃহৎ বেঙ্গলের প্রাচীনতম শহর কলকাতা, আগরতলা ও ঢাকার সাথে ফুটবল খেলা দিয়ে পরিচিত ছিল। লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম মডেল হাই স্কুল মাঠে খেলতে আসতো ঐসব অঞ্চলের নামী-দামী খেলোয়াড়রাও খেলেছে, ঐসব শহরের প্রধানতম ক্লাব-ক্রীড়া সংগঠনসমূহে। আজকের লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় (তৎকালীন মডেল হাই স্কুল) মাঠ ছিল ফুটবলের প্রান কেন্দ্র।

 

ত্রিশের দশকের রামগতির রৌম্যদা প্রসন্ন দাস, পিতা- এড্ভোকেট করুনা কান্ত দাস, কলকাতা ঈষ্ট বেঙ্গল দলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ঐ সময়ে আগরতলা মাঠে আগরতলা মহারাণী টিমের হয়ে এক ফুটবল টুর্ণামেন্টে হায়দরাবাদ নিজাম টিম তার গোলে পরাজিত হয়। এতে মহারাণী খুশী হয়ে রৌম্যদা প্রসন্ন দাসকে একটি হাতি ও একটি সুদৃশ্য বাঁধানো ছড়ি উপহার দিয়েছিলেন। এই ছড়ি দেখিয়ে মহারাণীর সাথে সরাসরি দেখা করা যেতো। তিনি ‘‘ফুটবলের যাদুকর’’ সামাদেরও সহযোগী ছিলেন। এত্দ অঞ্চলের বিভিন্ন মাঠে বাদাম চিবানোর মধ্য দিয়ে অপূর্ব ক্রীড়া নৈপূণ্য দেখিয়েছিলেন।

 

ত্রিশ ও চলি­শের দশকে লক্ষ্মীপুরের ফরাশগঞ্জ ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার ক্ষেত্রে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল।ফরাশগঞ্জের ‘‘পল­ী মঙ্গল ক্লাব’’ ছিল এত্দ অঞ্চলের ফুটবল খেলোয়াড়দেরপাদপীঠ। লক্ষ্মীপুরের তৎকালীন খ্যাতনামা ফুটবল খেলোয়াড়দেরএকটি বিরাট অংশ এই ক্লাবের সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে উলে­খযোগ্য হলেন মাখন লাল, লক্ষন চন্দ্র, অণীল চন্দ্র, অমিয় ভূষন, অজিত চন্দ্র, মোস্তাফিজুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার হাসান ও ইসমাইল মিয়া। এ সময়ে রামগঞ্জের সতিশ পাটওয়ারী ও কালা মিয়া ওরফে বড় কালা কলকাতা, ঢাকা ও বার্মার শ্রেষ্ঠ ফুটবল দলগুলোতে সেরা ক্রীড়া নৈপূণ্য প্রদর্শন করেছিলেন।উলে­খ্য যে ঐ সময়ে ক্রীড়া সংগঠক এড্ভোকেট তোফায়েল আহম্মদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মদিনউল্যা চৌধুরী, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী এম.পি. এ. বাবু পার্শ্বনাথ সাহা (শিক্ষক), শহিদউল্যা মাস্টার, আব্দুল হাকীম উকিল এম. এল. এ এবং কফিল উদ্দিন চৌধুরী। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে আরো কয়েকজন নতুন ফুটবলার লক্ষ্মীপুরের মাঠকে শোভামন্ডিত করে তোলেন। এরা হলেন-তিন ভাই গোলাম মোস্তফা, আব্দুর রব (পাটোয়ারী) ও আব্দুল গফুর (খোকা মিয়া) এবং পার্শ্বনাথ সাহা, জগদ্বীশ সাহা পঞ্চু ও দীলিপ সাহা, শফিক মিয়া (দেড় হাত), ভুলু পাটোয়ারী, বাবুল, আবুল খায়ের, মফিজুর রহমান, শামছুল হক, হোসেন আহমেদ, আঃ লতিফ (নও মুসলিম), লুৎফুল হায়দার ভুলু, রায়পুরের নুরুল ইসলাম (আজুব চেয়ারম্যান) আলী আহমেদ, শহীদ মিয়া, ছায়েদ (চরবংশী), মুনছুর পন্ডিত, মুনছুর জমাদার, ইউনুছ চৌধুরী, আশ্বেক আলী, বশির উল্যা মাস্টার, রামগতির আবুল খায়ের প্রমুখ। এ সময় লক্ষ্মীপুরের মাঠে প্রত্যেক মৌসুমে লীগ-টূর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হতো।এ ছাড়া এসকল খেলোয়াড়দের অনেকে নোয়াখালী ফুটবল লীগে কৃতিত্বের সাথে অংশ গ্রহণ করেছেন।

 

সত্তর দশকের শেষ দিকে লক্ষ্মীপুর মহকুমায় উন্নীত হলে প্রথম মহকুমা প্রশাসকের নামে ‘বদরে আলম শীল্ড’ নামে একটি টূর্ণামন্টে অনুষ্ঠিত হয়। এ টুর্ণামেন্ট লক্ষ্মীপুরকে নতুনমাত্রায় সজীব করে তোলে। এ সময়ে লক্ষ্মীপুরে টাউন হল, মোহামেডান, আবাহনীর পর জাগরণী ক্রীড়াচক্র নামে একটি ক্রীড়া সংগঠনের জন্ম হয়। জাগরনী আশির দশকে লক্ষ্মীপুরের মাঠে সম্পূর্ণ স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রাণের দল হিসেবে প্রধানতম আলোড়িত সংগঠন ছিল। ১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর জেলায় উন্নীত হয়। থানা ও মহকুমা আমলে ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জনাব গোলাম মোস্তফা মিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। শুরু হয় নতুন উদ্যমে জাতীয় অঙ্গনে ফুটবল খেলার কাজ। ‘৮৪ সালে ০২ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ করে লক্ষ্মীপুরে ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ‘৮৫ সালে শেরেবাংলা কাপ টুর্ণামেন্ট ও এরশাদ কাপ কিশোর ফুটবল টুর্ণামেন্টে লক্ষ্মীপুর জেলা দল কৃতিত্বের সাথে অংশ নেয়। কক্সবাজারের মাঠে খাগড়াছড়িকে পরাজিত করে ২য় পর্বে উত্তীর্ণ হয়।

 

১৯৮৬ সালে জনাব চির রঞ্জন বড়ুয়া জেলা প্রশাসক, লক্ষ্মীপুর তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম সরকার, জেলা প্রশাসক, লক্ষ্মীপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ান হয় মোহামেডান, লক্ষ্মীপুর এবং রানার্সআপ হয় ফেনী সকার্স দল। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে বেসরকারী উদ্যোগে বেশ কিছু মাঠ থাকলেও সরকারী ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে সরকারী স্টেডিয়াম ৩টি। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামটি পরিপূর্ণতা লাভ করলেও রামগতি ও রামগঞ্জে অনুমোদিত স্টেডিয়াম আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো অভাবে পরিপূর্ণতা পায়নি।

ছবি


সংযুক্তি